ব্রেকিং:
নয়াপল্টনে ভাংচুরকারী সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে পুলিশের অনুরোধ ৭ নভেম্বরের পর দেশ দখলের হুমকি দিলো বিএনপির দুদু

মঙ্গলবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৮   অগ্রাহায়ণ ২৭ ১৪২৫   ০২ রবিউস সানি ১৪৪০

৪০

রাইড শেয়ারিং সেবা চলছে অবৈধভাবে, মানছে না নীতিমালা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৮  

সরকার ‘রাইড-শেয়ারিং’ নীতিমালা অনুমোদন করার পর এক বছর হতে চললেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় একটি কোম্পানিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তালিকাভুক্তির সনদ পায়নি।

ফলে অল্প দিনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো অবৈধভাবেই ঢাকার রাস্তায় চুটিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। স্মার্টফোন অ্যাপনির্ভর এই সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগও দিন দিন বাড়ছে।

উবার, স্যাম, পাঠাওয়ের মত কয়েকটি কোম্পানি ২০১৬ সালে যখন ঢাকায় রাইড শেয়ারিং সেবা দেওয়া শুরু করল, তখন এ ধরনের সেবার কোনো নীতিমালা দেশে ছিল না। কিন্তু যানজট আর গণপরিবহনে নৈরাজ্যের শহর ঢাকায় মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।

বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পর চলতি বছর ১৫ জানুয়ারি ‘রাইড-শেয়ারিং’ নীতিমালা সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

ব্যবসা শুরুর আগে ‘রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নামে বিআরটিএ থেকে ‘এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট’ এবং মোটরযানের মালিকের নামে ‘রাইড শেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট’ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় সেখানে।

বিএরটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, নীতিমালা হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১২টি কোম্পানি এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেছে, তবে একটিও তা পায়নি।
কোম্পানির তালিকাভুক্তি না হওয়ায় যানবাহনকেও রাইড শেয়ারিংয়ের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না। আবার কয়েকটি কোম্পানি ব্যবসা চালিয়ে গেলেও নিবন্ধনের আবেদনই করেনি।  

আবেদন করা রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- উবার বাংলাদেশ লিমিডেট, পাঠাও লিমিটেড, সহজ লিমিটেড, চাল ডাল লিমিটেড, আকাশ টেকনোলজি লিমিটেড, গোল্ডেন রেন লিমিটেড, ওভাই সলিউশনস লিমিটেড, রাইডার রাইডশেয়ার ইনক লিমিটেড, পিকমি লিমিটেড, ইজিয়ার টেকনোলজিস লিমিটেড, আকিজ অনলাইন লিমিটেড এবং কম্পিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক লিমিটেড।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, আবেদন পাওয়ার পর তারা এসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে না পারায় কোনো কোম্পানিকে তারা এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট দিতে পারেননি।

নীতিমালা অনুযায়ী রাইড শেয়ারিং অ্যাপে এসওএস সুবিধা চালু না করা, চালকের হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না করা, কল সেন্টার পুরোপুরি চালু না হওয়া এবং ডেটা সার্ভার বাংলাদেশে না থাকার মত কারণে এনলিস্টমেন্ট আটকে আছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ অবস্থায় সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে একটি চিঠি দিচ্ছে বিআরটিএ। ওই চিঠির খসড়ায় বলা হয়েছে, এনলিস্টমেন্ট না হওয়ায় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো ‘অবৈধভাবেই’ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

নিবন্ধন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে সেবা দিচ্ছে জানতে চাইলে বিআরটিএর পরিচালক মাহবুব-এ-রব্বানী বলেন, নীতিমালা চালু হওয়ার আগেই রাইড শেয়ারিং সেবা চালু হয়ে গেছে। মানুষও তাদের গ্রহণ করেছে।

“তারা চলছে, কারণ আমরা কিছু বলছি না। সরকার কিছু বলছে না, যেহেতু এটা মানুষের প্রয়োজন। এ কারণে হয়তো তাদের একটু সময় দিচ্ছে।”

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা