ব্রেকিং:
নয়াপল্টনে ভাংচুরকারী সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে পুলিশের অনুরোধ ৭ নভেম্বরের পর দেশ দখলের হুমকি দিলো বিএনপির দুদু

শুক্রবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৫   ০৫ রবিউস সানি ১৪৪০

১৪

মেহেরপুরে কলাইয়ের রুটি বিক্রির ধুম

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০১৮  

শীত উপেক্ষা করে মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ কলাইয়ের রুটি খেতে দেখা যাচ্ছে।  মুখরোচকের সাথে পুষ্টিকর কলাইয়ের রুটি বিক্রি করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে। 

সুস্বাদু-এই কলাইয়ের রুটি  মেহেরপুর অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয় । শীত মৌসুমে এ জেলার গাংনী, বামুন্দি, মুজিবনগর, কেদারগঞ্জ বাজারে ছাড়াও গ্রামের অনেক হাট বাজারে ঐতিহ্যবাহী কলাইয়ের রুটি বিক্রির ধুম পড়ে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। 

রাস্তার পাশে, বিভিন্ন হাট-বাজারে চলছে এ রুটি বিক্রির ধুম। এই অঞ্চলে কলাই রুটি বিক্রি করে অনেক নারী জীবন-জীবিকার জন্য নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে। তারা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুটি বিক্রি করেন। 

ব্যবসায়ী জুবিলি খাতুন জানান, কলাই রুটি খেতে সবজি লাগে না। চিনি, গুড়, কিংবা মিষ্টিও লাগে না। প্রয়োজন হয় না গোশতেরও। শুধুমাত্র তেল, লবণ ও মরিচ, রশুন, ধনেপাতা আর পিয়াজ দিয়ে তৈরি এ রুটি মরিচ-ভর্তা দিয়ে খেতে হয়। রুটি ব্যবসায়ীর থালা বাসনেরও দরকার হয় না। ক্রেতারা রুটি হাতের উপর নিয়ে খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রতিদিন রাতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়। লাভ ও হয় ছয় সাতশ টাকা। রাস্তার পাশে ফুটপাতে সামান্য বেঞ্চ আর প্লাস্টিক টুলেরে উপর কিংবা কাঠের পিড়িতে বসে খাওয়া যায়। 

বিক্রেতা জিয়ারুল জানান, ভদ্রলোকদেরও কম পছন্দ নয় কলাইয়ের রুটি। তবে তারা তো ফুটপাতে এসে বসতে পারে না। কাজের লোকের মাধ্যমে কিনে নেন। কালাইয়ের রুটি বানানোর কৌশল হিসেবে দেখা যায়- চাল ও গমের আটা মেশানো আটা পরিমাণ মতো লবণ ও পানি দিয়ে আটা মাখিয়ে তৈরি করা হয় আসল কাজ। মাখানো কাজটি যত ভালো হবে রুটি হবে তত ভালো ও সুস্বাদু। 

জুবিলি বেগমের ভাষায়- শুধু কলাইয়ের রুটি খেতে ভালো লাগে না। তিতকুটেও লাগে। 

সরেজমিনে দেখা যায়- কলাইয়ের রুটি আয়তনে বড় বড় এবং বেশ পুরো। পানি মাখানো আটা গোল করে একটি পলিথিনের ওপর রেখে আরেকটি পলিথিন দিয়ে হাতের চাপে বৃত্তাকার করে চুলার তাওয়াতে সেঁকে রুটি তৈরি করা হচ্ছে। রুটি সেকার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুটি জমজমাট বিক্রি হয়। একেকটি রুটি কুড়ি টাকা। স্পেশাল-ভাবে সেঁকে নিলে ২৫ টাকা। 

মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের পাশে পরিবার পরিজন নিয়ে কলাইয়ের রুটি পেতে লাইন দিয়েছে একরামুল হক ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন তারা জানান- তাদের নিজেদের ইচ্ছের সাথে ছেলে তানভিবের কারণে সপ্তাহে একদিন এখানে রুটি খেতে আসেন।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর