ব্রেকিং:
নয়াপল্টনে ভাংচুরকারী সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে পুলিশের অনুরোধ ৭ নভেম্বরের পর দেশ দখলের হুমকি দিলো বিএনপির দুদু

সোমবার   ২১ জানুয়ারি ২০১৯   মাঘ ৭ ১৪২৫   ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

২০

মেহেরপুরে আতঙ্কের আরেক নাম আর্সেনিক

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৯  

মেহেরপুরে আতঙ্কের  আরেক নাম আর্সেনিক। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত আর্সেনিকের বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন শতশত মানুষ। মৃত্যু-ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই শরীরের বিভিন্ন অংশে বয়ে বেড়াচ্ছেন ঘা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, এলাকায় গভীর নলকূপ থেকে পানি তোলার ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন বাড়ছে আর্সেনিকের পরিমাণ।

 গত ৩০ বছর ধরে মেহেরপুরের সদর, গাংনী, তেঁতুলবাড়িয়া ও মুজিবনগর উপজেলার ১১টি গ্রামে রয়েছে সুপেয় পানির হাহাকার। পানির ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা এখন ডোবা ও বিলের নোংরা পানি। এছাড়া টিউবওয়েলের আর্সেনিকযুক্ত বিষাক্ত পানি ব্যবহার করায় দিন দিন বাড়ছে মৃত্যু-ঝুঁকি। শুধু শারীরিকভাবেই নয় মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকাবাসী। এ অবস্থায় নিরাপদ পানির বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ডা. জি.কে.এম শামসুজ্জামান( সিভিল সার্জন, মেহেরপুর) বলেন, 'মেহেরপুর বাসীকে যদি আমরা আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করাতে পারি তাহলে আমরা আর্সেনিক সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারব।'

সম্প্রতি আলমপুর গ্রামে অস্ট্রেলিয়া ইনফিনিটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করে। কিন্তু ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

ওয়েচ অলজক(নির্বাহী প্রধান, ইনফিনিটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) বলেন, 'আমরা আশা করছি এটির মাধ্যমে পানির চাহিদা পূরণে কিছুটা হলেও সহায়তা হবে।'

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, এলাকায় গভীর নলকূপ না থাকায় এবং পানি জমে থাকার উৎসগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আর্সেনিকের পরিমাণ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল গাফফার মোল্লা বলেন, 'ভূগর্ভস্থ পানির অধিক উত্তোলনের কারণে আর্সেনিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।'

সাধারণত, পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা থাকে প্রতি লিটার শূন্য দশমিক পাঁচ পিপিএম। কিন্তু আর্সেনিক আক্রান্ত গ্রামগুলোতে এর মাত্রা দাঁড়িয়েছে তিন দশমিক শূন্য শূন্য পিপিএম। গত ১৫ বছরে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগে মারা গেছে শতাধিক। আর বর্তমানে মৃত্যু-ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছেন ২০ হাজার মানুষ।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর