সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

২০

মাদকে জড়াচ্ছে সন্তান, বুঝবেন যেভাবে...

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

প্রত্যেক পিতা-মাতার কাছেই সন্তান অমূল্য রতন। তাই সন্তান যাতে সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে, এবং সব দিকেই পরিপূর্ণতা পায় তাই পিতা-মাতার চেষ্টার কোন ত্রুটি থাকে না।


তবে সন্তান বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলেই চিন্তা বাড়ে অভিভাবকদের। কারণ সন্তান বয়ঃসন্ধিতে পড়লে তাদের আচার-ব্যবহারে নানা রকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এসময় তাদেরকে বোঝাটা কঠিন হয়ে পড়ে। আর ঠিক এই সময়টাতেই সন্তান মাদকে জড়িয়ে যেতে পারে।


পরিবারের কারো সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না থাকায় একাকিত্ব গ্রাস করতে পারে তাদের। তাছাড়া বাইরের বন্ধু-বান্ধবদের খারাপ সঙ্গ থেকে নানা রকম মাদকদ্রব্যের শিকার হয় কিশোর-কিশোরীরা। তাই সন্তানদের এই বিপদ থেকে বাঁচাতে সবার আগে সচেতন হতে হবে অভিভাবককে।


এ বিষয়ে মনোবিদরা বলেন, মাদক ও নেশার কবলে পড়া শিশুদের আচরণগত কিছু পার্থক্য ঘটে। অনেক সময় সন্তান বড় হয়ে গেলে তার খুঁটিনাটির প্রতি খেয়াল রাখতে পারেন না অভিভাবকরা। আর সেই ফাঁকেই ঘাঁটি গাড়ে নেশার চারা।


মনোবিদরা বলছেন, কিছু লক্ষণ দেখলেই সচেতন হোন। কেউ কেউ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে প্রথমে কৌতূহলের বশে মাদকের স্বাদ নিতে শুরু করে কিন্তু পরে আর নিজেদের সামলাতে পারে না। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সন্তানদের মাদকে জড়ানোর লক্ষণগুলো-


* সন্তানের মন-মেজাজের দিকে খেয়াল রাখুন। কথায় কথায় বিরক্তি বা রাগ দেখাচ্ছে কি না কিংবা খুব মুড সুইং হচ্ছে? তা হলে সচেতন হোন। হতেই পারে মাদক থেকে তৈরি হওয়া সমস্যার কারণে হয়তো এমনটা ঘটছে না। তবু সতর্ক থাকার সময় সবটুকুর জন্যই থাকতে হবে।


* কোচিংয়ে যাচ্ছে, সেখানে আদৌ সময় মতো যাচ্ছে কি না, খেয়াল রাখতে হবে সেক্ষেত্রেও। সবচেয়ে বড় ব্যাপার কাদের সঙ্গে মিশছে, কার সঙ্গে কতটা গভীর ভাব, এগুলোও দূর থেকে বা তাদের দলে মাঝে মাঝে ভিড়ে জেনে নিন।


* সন্তানের ব্যবহার করা ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে বন্ধুর মতোই ব্যবহার করুন। প্রথম থেকেই তেমনটা করতে পারলে গোপনীয়তার পরিধি কম থাকবে।


* হঠাৎই উল্লেখযোগ্য ভাবে পরীক্ষার ফল খারাপ হতে শুরু করলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবেন না। নেশা ছাড়াও নানা কারণেই হতে পারে তা। কেন হল তা জেনে সেই মতো ব্যবস্থা নিন। তবে মনে রাখবেন, অনেক ক্ষেত্রেই নেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণেও এমন অবহেলা দেখা যায়।


* খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের সময়ের উপর নজর রাখুন। ঠিকঠাক খাওয়া-দাওয়া না করা বা সারা রাত জেগে থাকা, বাইরে থেকে নেশা চোখে বাড়ি ফেরা, হঠাৎ অবিন্যস্ত কথা বলা-এসব দেখলে সতর্ক হোন।


অতটা সম্ভব না হলে অন্তত ছেলে-মেয়ের বন্ধুদের মাঝে মাঝেই বাড়িতে ডাকুন। দরজা বন্ধ করে চুপচাপ আড্ডা নয়, সবার মাঝে হই-হুল্লোড় করে আড্ডা দিতে বলুন। এর ফাঁকে বুঝে নিতে চেষ্টা করুন, সন্তানের ‘সঙ্গদোষ’ তৈরি হচ্ছে কি না। তেমনটা বুঝলে বোঝান তাকে। নিজেরা না পারলে কাউন্সিলিংয়ের সাহায্য নিন।


* কেবল সন্তান নয়, নিজেদের ভুলগুলোও চিহ্নিত করুন। বাড়িতে এমন কিছু করবেন না বা এমন কোনো পরিবেশ তৈরি করে রাখবেন না, যেখানে মাদকদ্রব্য সেবন বা নেশার জন্য আপনার দিকেই আঙুল উঠতে পারে।


* হঠাৎই হাত খরচের পরিমাণ বাড়াতে বলছে, আবার কিসে এত খরচ হচ্ছে তার কোনো হিসাব দিতে পারছে না। এমনটা ঘটলে সচেতন হোন।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা