মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

৩৭৫

মহাকাশ থেকে আসা কিছু রহস্যময় সিগন্যাল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০১৮  

পৃথিবী কী একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে? এই মহাবিশ্বে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহেও কি প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে? হতে পারে যে পৃথিবীর বাইরেও জীবনের অস্তিত্ব রয়েছে। আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। যেমন ওখানে থাকা প্রানিগুলো কেমনভাবে বসবাস করে। বা ওদের চেহারাই বা কেমন হবে? পৃথিবীর মানুষের মতো তারাও কি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চায়?

এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার জন্য ১৯৮৪ সালে ইউএসএ তে একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেটির নাম হল এসইটিআই বা সার্চ ফর এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এটি এমন একটি সংস্থা যেটি পৃথিবীর বাইরের বুদ্ধিমান প্রজাতির সন্ধান করে। সেটি অর্গানাইজেশন পৃথিবীর বাইরে ইন্টেলিজেন্স সিভিলিজেশনদের খোঁজার জন্য রেডিও সিগন্যাল এবং লেজার সিগন্যাল এর ব্যবহার করে।

এই সিগন্যালগুলোকে মহাকাশে পাঠানো হয়। যাতে মহাকাশের যদি উন্নত কোন প্রজাতির থেকে থাকে তবে তারা যেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, আমরা কি কোনোদিন মহাকাশ থেকে কোন সিগন্যাল পেয়েছি? উত্তর হল হ্যাঁ! বিভিন্ন সময়ে আমরা মহাকাশ থেকে অনেক রকম সিগন্যাল পেয়ে থাকি। আজ আমরা কথা বলবো মহাকাশ থেকে আসা কিছু রহস্যময় সিগন্যাল এর ব্যাপারে।


 
হ্যাশ এইচডি ওয়ান শীক্স ফাইভ নাইন: মহাকাশ থেকে আসা এই সিগন্যালটিকে নিয়ে সমগ্র বিজ্ঞানী মহল বিস্মিত। ১৫ মার্চ ২০১৫ সালে রাশিয়ার একটি টেলিস্কোপে মহাকাশ থেকে আসা এই রহস্যময় সিগন্যালটিকে রেকর্ড করে। এই সিগন্যালটি ৫৫ আলোকবর্ষ দূরে এইচডি ওয়ান শীক্স ফাইভ নাইন নামের একটি গ্রহ থেকে আসছিল। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে এমন কোন যন্ত্র নেই যে এত শক্তিশালী সিগন্যাল পাঠাতে পারে। এই সিগন্যালটি আসার পর থেকে বৈজ্ঞানিকেরা ওই গ্রহটির উপর গবেষণা শুরু করে দেয়।

হ্যাশ ফ্রিকুয়েন্সি ৪৪৬২.৩: এই সিগন্যালটি ১০০ আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত পৃথিবীর মতই একটি গ্রহ থেকে আসছিল। এই সিগন্যালটিকে দ্বিতীয় ওয়াও সিগন্যালও বলা হয়। ২০১০ সালে সেটির টেলিস্কোপে এটা ধরা পড়ে। এই সিগন্যালটি দশ সেকেন্ড ধরে রেকর্ড করা হয়।

এফআরবি ১৫০২১৫: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে এ ফার্স্ট রেডিও সিগন্যালটিকে রেকর্ড করা হয়। যেটি মাত্র কয়েক মিলি সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। এটি কোথা থেকে আসছিল বা এই সিগন্যালটির মানে কি ছিল তা কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।

অনেকেই এটিকে এলিয়েনদের পাঠানো কোন সিগন্যাল বলে থাকেন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির রিসার্চারদের মতে এটি কোন একটি এলিয়েন স্পেস শিপ থেকে আসছিল। এই সিগন্যালটি এগারোটি টেলিস্কোপে ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা এর উৎস স্থল কোথায় বলতে পারেননি। কারণ এটি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাইরে থেকে আসছিল। বিজ্ঞানীরা বলেন যে এটি এক বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের কোন গ্রহ থেকে আসছিল।


 
রাডিও সোর্স এস এইচ জি ০২ প্লাস ফরটিন এ: ২০০৩ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সেটির জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি বিশাল আরছিব টেলিস্কোপ নির্মাণ করেন। মহাকাশের ২০০ টি জায়গা থেকে এই রেডিও সিগন্যাল রিসিভ করা হয়। এই টেলিস্কোপটি তিনবার রেডিও সিগন্যাল রিসিভ করে এবং প্রতিবারই এক মিনিট ধরে সিগন্যাল রিসিভ করে। এই সিগন্যাল এর ফ্রিকুয়েন্সি ছিল ১৪২০ মেগাহার্টজ। এই সিগন্যালটির বিশেষত্ব হল, এর উৎস স্থল। এটি প্রধান এবন মেস তারা মণ্ডল থেকে আসছিল। সেটির বক্তব্য হল যে এই সিগন্যালটি কোন প্রাকৃতিক উৎস থেকেও হতে পারে।

ওয়াও সিগন্যাল: এই রেডিও সিগন্যালটিকে পৃথিবীর বাইরে থেকে আসা এলিয়েন সিগন্যাল এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলা হয়। এই সিগন্যালটি ১৯৭৭ সালে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি রেডিও টেলিস্কোপ বিগ ইয়ারে রেকর্ড করা হয়। এই রহস্যময় সিগন্যালটি তারামণ্ডল থেকে আসছিল। আপনাদের বলে রাখি যে এই তারা মন্ডলটি পৃথিবী থেকে একশ বিশ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এই সিগন্যালটিকে ৭২ সেকেন্ড ধরে রেকর্ড করা হয়। এই সিগন্যালটি সেটির এক বিজ্ঞানীর নজরে আসে। তিনি এই সিগন্যালটিকে দেখে এতটা অবাক হন যে এটির সিগন্যাল রিপোর্টের প্রিন্ট আউটে ওয়াও লিখেন। তারপর থেকেই এই সিগন্যালটি কে ওয়াও সিগন্যাল বলা হয়।


 
এই সিগন্যালটি যেখান থেকে আসছিল সেটির উদ্দেশ্যে কিছু পাল্টা সিগনাল পাঠানো হয় কিন্তু কোনদিনও সেখান থেকে কোন সিগন্যাল আসেনি। এই সিগন্যালটি কারা পাঠিয়েছিল এবং কেনই বা পাঠিয়ে ছিল তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। এই ব্যাপারে স্টিফেন হকিং এর কি মতামত? তিনি বলেন যে, আমাদের কোনদিনই বাইরের জগতের কোন প্রাণী জগতকে সিগন্যাল পাঠানো উচিত নয়। কারণ যদি তারা পৃথিবীতে তাদের বসবাসের উপযুক্ত বলে মনে করেন তাহলে তারা পৃথিবীর প্রাণী জগতকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তিনি আরো বলেন যে পৃথিবী যেমন অন্য গ্রহে বসবাস করার পরিকল্পনা করছে তেমনি বাইরের জগতের উন্নত প্রজাতিরা ও হয়তো অন্য গ্রহের সন্ধানে করছে। যদিও তার এই বক্তব্যটি বিজ্ঞান মহলের একটি বিতর্কিত বিষয়।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর