সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

২৩১

প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে স্বতঃস্ফূর্ত রাজনীতিকরা

নিউজ ডেক্স

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিগত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও সংগঠনের নেতাদের সম্মানে এক চা-চক্রের আয়োজন করেন। গতকাল শনিবার বিকেলে গণভবনের দক্ষিণ লনের সবুজ চত্বরে আয়োজিত এই চা-চক্রে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু), জাপা (মঞ্জু), জাসদ (আম্বিয়া), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, তরীকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে চা-চক্রের অনুষ্ঠানস্থলে আসেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বিভিন্ন টেবিলে ঘুরে ঘুরে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ওবায়দুল কাদের, মুহাম্মদ ফারুক খান, আব্দুল মতিন খসরু, ড. আব্দুর রাজ্জাক, ড. হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, সুনীল শুভ রায়, জাপার (মঞ্জু) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাসদ (আম্বিয়া) নেতা মইন উদ্দীন খান বাদল ও নাজমুল হক প্রধান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা চা-চক্রে যোগদান করেন।

এ ছাড়া বিকল্পধারার সভাপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেজর (অব.) এম এ মান্নান, মাহী বি চৌধুরী, শমসের মবিন চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মিজবাহুর রহমান চৌধুরী, তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া, বিএনএফের সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোট নেতা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে গণভবনের দক্ষিণ লনের সবুজ চত্বর আবহমান গ্রামবাংলার সাধারণ বাড়িঘরের আদলে সাজানো হয়। কুঁড়েঘরের সঙ্গে বসার জন্য মাদুর ও মোড়া পাতা হয়। খাবার পরিবেশনের জন্য মাটির পাত্র ব্যবহার করা হয় এবং এ সময় দেশাত্মবোধক সংগীত বাজানো হয়।

অতিথি আপ্যায়নেও বিশেষত্ব হিসেবে ছিল ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলিসহ হরেক রকম দেশি পিঠা, চটপটি, ফুচকা, মুড়ি, মোয়া, নাড়ু ও জিলাপি ছাড়াও মোগলাই খাবার হিসেবে ছিল কাবাব ও নান রুটি।

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে চা-চক্রে যোগদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আপনাদের উপস্থিতি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা শুধু কুশলই বিনিময় করিনি, আমরা শীতের পিঠা খেতে খেতে বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিষয়ে পরস্পরের সঙ্গে আমাদের অভিমত শেয়ার করেছি।’ প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রের আয়োজন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এই শুভ উদ্যোগে আপনারা সবাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত সংলাপের মাধ্যমে খোলামেলা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষে আমরা সহযোগিতা চেয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্বাচনের সময় জাতির কাছে দেওয়া ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করতে চান।’ ‘আমাদের সব নেতার পক্ষে আমি এ জন্য আপনাদের সবার কাছে সব রকম সহযোগিতা কামনা করছি।’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর চা-চক্রে ৫৪টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানান। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই চা-চক্রে যোগদান করে। সূত্র : বাসস।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর