শনিবার   ১৭ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ২ ১৪২৬   ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

২৩২

দীর্ঘ ৫৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলো মেহেরপুর মৎসবীজ খামার

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০১৮  

দীর্ঘ ৫৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলো মেহেরপুর মৎসবীজ খামার। প্রতিষ্ঠার পর এবার প্রথম রেনু পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছে এ খামারে।

 

পুকুরে পানি না থাকা ও অত্যাধিক আয়রনের উপস্থিতির কারনে এতোদিন রেনু উৎপাদন সম্ভব হয়নি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেনু উৎপাদন সুফল বয়ে আনবে এ জেলার মৎস চাষীদের। অত্যাধুনীক আয়রন রিমোভাল প্লান্ট ও দক্ষ জনবল পেলে এখান থেকেই
জেলার সিংহভাগ রেনু পোনার চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানালেন খামার ব্যবস্থাপক।

 

মেহেরপুর মৎসবীজ খামারের প্রতিষ্ঠা ১৯৬২ সালে। জেলার মাছচাষীদের রেনুপোনার চাহিদা মেটাতে সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এই খামারটি। এরপর কেটে গেছে ৫৭ বছর, কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও ঠিকঠাকভাবে সম্ভব হচ্ছিলো না রেনুপোনা উৎপাদন। পুকুরে পানি না থাকা ও পানিতে অত্যাধিক আয়রনের উপস্থিতির কারনে রেনু উৎপাদন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বছরের পর বছর পুকুরগুলো ভরাট হতে থাকে।

 

সম্প্রতি ব্রুডব্যাংক প্রকল্পের আওতায় পুকুরগুলো সংস্কার করে পলিথিন ব্যবহারের মাধ্যমে পানি ধারন ক্ষমতা বাড়ানো হয়। একটি ছোট আকারে আয়রন রিমোভাল প্লান্ট বসিয়ে চলতি বছরে ৫৬ কেজি রুই, মৃগেল, কাতলা মাছের রেনু উৎপাদন করা হয়েছে। পদ্মা নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে পুরুষ ও মা মাছ। পূর্নাঙ্গভাবে রেনু উৎপাদনে যেতে হলে প্রয়োজন দক্ষ জনবল ও একটি অত্যাধুনীক আয়রন রিমোভালপ্লান্ট। জেলায় পর্যাপ্ত হ্যাচারী না থাকায় এখানকার মাৎস চাষীদের রেনু সংগ্রহের জন্য যেতে হয় ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। অনেক সময় রাস্তায় মারা যায় রেনু। এ খামারে রেনু উৎপাদন শুরু হওয়ায়
খুশি মৎস চাষীরা।

 

জেলায় সবচাইতে বেশি চাষ হয় মনোসেক্স ও পাঙ্গাসের। সরকারীভাবে এসব রেনু উৎপাদনেরও দাবি মৎস চাষীদের। রেনুর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দক্ষ জনবল ও একটি আধুনিক আয়রন রিমোভাল প্লান্টের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জনানো হয়েছে বলে জানালেন জেলা মৎস কর্মকর্তা।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর