সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

৩১

তোমরা যারা ডাক্তার হতে চাও, তাদের জন্যে...

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

অসুস্থ মানুষের কাছে যাওয়া এবং সেবা করার সবচেয়ে বড় উপায় ডাক্তারি পেশা। ডাক্তার হওয়া পিতা, মাতা ও শিক্ষার্থীদের যেন আজন্ম স্বপ্ন। আগামী ৪ অক্টোবর হতে যাচ্ছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার সুযোগ এসেছে। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে বাকি ১ মাস সঠিক উপায়ে পড়াশোনা করতে হবে। বিভিন্ন মেডিকেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন - মো. আবু হানিফ    


জীববিজ্ঞান

মেডিকেল ভর্তি যুদ্ধে টিকতে হলে ভাল প্রস্তুতির বিকল্প নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীববিজ্ঞান কারন সর্বোচ্চ ৩০ নম্বর থাকে এই বিষয়ে। এখানে দুটি অংশ- উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং প্রাণীবিজ্ঞান। উভয় অংশই সমান গুরুত্বের সঙ্গে পড়তে হবে। প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো পাঠ্য বইয়ের ছক, পার্থক্য, বৈশিষ্ট্য, ছবির পাশের তথ্য ইত্যাদি ভালো করে পড়তে হবে। যত উদাহরণ আছে ওগুলো মুখস্থ রাখতে হবে। সবাই যে অধ্যায়টা একটু ভয় পায় সেটা হলো মানব দেহের কঙ্কালতন্ত্র। সত্যিকার অর্থেই এই অধ্যায়টি একটু জটিল কারন মানবদেহের প্রত্যেকটা অংশ মুখস্থ করে মনে রাখা কিছুটা কঠিন। এখন তো ইন্টারনেট সবার কাছেই সহজলভ্য তাই আমি তোমাদের কে পরামর্শ দিব যে তোমরা ইন্টারনেটে হিউম্যান স্কেলেটন এর প্রত্যেকটা অংশ দেখে নাও তারপর বইটা পড়ো দেখবে মনে রাখা খুব সহজ। আর উদ্ভিদ বিজ্ঞান থেকে শারীরতত্ত, অনুজীব এবং জনন অধ্যায় গুলো গুরুত্ব সহকারে পড়বে। মনে রাখবে, পরীক্ষার আগের এই কয়টা দিন তোমার জীবনের গল্প তৈরির একটা সুযোগ তৈরি করে দিবে, তাই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত কর। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো।

সানজিদা ফেরদৌস রিপা
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
সেশনঃ ২০১৪-১৫

রসায়ন

বিষয়টির নামের সঙ্গে রসের যোগসূত্র থাকলেও এ বিষয় থেকে কে কতটুকু রসের সন্ধান পায় তা আসলে অনুমেয় নয়। ভর্তি পরীক্ষায় রসায়নের ২৫ মার্কসের উপর অনেকাংশেই নির্ভর করবে তোমাদের সাফল্য। অন্যান্য বিষয় অপেক্ষা বাজারে বেশি লেখকের বই এবং প্রতি বইয়ের টপিকস এর ভিন্নতার কারনে এ বিষয়টি একটু জটিল মনে হয় অনেকের কাছে। যেকোনো একটা বইকে মেইন ধরে বাকি বইগুলো থেকে অতিরিক্ত ইনফরমেশন গুলো মেইন বইটাতে টুকে নিবা। রসায়নের ক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় হল কনসেপ্ট ক্লিয়ার রাখা শতভাগ। তাহলে যেকোনো বই থেকে প্রশ্ন আসলেও সমাধান করার দক্ষতা থাকবে। অনেকের কাছে রসায়নের সবচেয়ে বড় ভীতির নাম জৈব যৌগ। যারা অতিরিক্ত ভয় পাও তারা নামধারী বিক্রিয়াগুলো, তাদের প্রভাবক, তাপমাত্রা, চাপ এগুলো অবশ্যই পড়ে ফেলবে। গুরুত্বপূর্ণ  জৈব বস্তুগুলোর প্রস্তুত পদ্ধতি আছে কয়েকটা করে। ওগুলো একদম পরিষ্কার ভাবে মনে রাখবা। আর অবশ্যই বিগত বছরের সব প্রশ্ন সমাধান করে যেতে হবে সঙ্গে ঐ টপিকস রিলেটেড বিষয়গুলো। রসায়নকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। বারবার পাঠ্যবই রিভিশন দিয়ে এবং বেশি বেশি প্রশ্ন সমাধান করার মাধ্যমে রসায়নে ভালো করা সম্ভব। মেডিকেল ভর্তিচ্ছু সব ভাই বোনের জন্য শুভকামনা। তোমাদের পদচারণায় মুখরিত হোক মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসগুলো।

সাগর বিশ্বাস
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর
সেশনঃ ২০১৬-১৭

পদার্থ বিজ্ঞান

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে ২০ নম্বর এখান থেকে আসে। কিছু টেকনিক অনুসরণ করলে এ অংশে ভালো নম্বর তোলা তোমাদের জন্য হবে একটি সহজ ব্যাপার। বেশি করে মূল বই পড়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তোমার পছন্দের কালির কলম দিয়ে মার্ক করে রাখ। বারবার রিভিশন দিলে ধারণাগুলো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ম্যাথ নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই, কারণ যেসব ম্যাথ আসবে তা তোমরা মুখেই কিংবা হালকা রাফ করে মিলিয়ে নিতে পারবে।  তাই সূত্র গুলো ভালো করে আয়ত্ত করে ফেল। অধ্যায় ভিত্তিক সূত্রগুলো আলাদা করে তালিকা বানিয়ে নিতে পারো।  নিজের পছন্দমত শর্টকাট তৈরী করে নাও।  যা মনে রাখার ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক হবে। মূল বইয়ের ক্ষেত্রে তপন স্যার এবং আমির হোসেন স্যার ও ইসাহাক স্যারের বইয়ের ওপর অধিকতর গুরুত্ব দিবা। অনুশীলনীর প্রশ্নগুলো (নৈর্ব্যক্তিক) সমাধান করতে হবে। যেটা মনে রাখতে সমস্যা হয় সেটা লিখে টেবিলে লাগিয়ে রাখতে পারো। মূল বইয়ের বাইরে কিছুই আসে না। প্রতিটি অধ্যায়ের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে এবং অবশ্যই বুঝে পড়তে হবে। মনে রেখ, কঠোর পরশ্রিম ও প্রবল ইচ্ছে শক্তি তোমাকে পৌঁছে দেবে স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।

উত্তম ওঝা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী
সেশনঃ ২০১৭-১৮


সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজি 

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সাধারণ জ্ঞান আর ইংরেজি। অল্প কিছু টেকনিক জানলেই এই দুই বিষয়ে বেশ ভালো করা যায়। সাধারণ জ্ঞান থেকে ১০ টি প্রশ্ন থাকে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী থেকে। এ বছর সার্কুলারে 'আন্তর্জাতিক' উল্লেখ না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো দেখে যাওয়া ভাল। সাধারণ জ্ঞান এর প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরগুলোতে মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় সাধারন জ্ঞান থেকে আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে নাও, পাশাপাশি বিসিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারন জ্ঞানের উপরে আসা বিগত ১০ বছরের প্রশ্নগুলোও ভালোভাবে দেখতে হবে। তাহলে তুমি নিজেই বুঝতে পারবা পরিক্ষায় সাধারন জ্ঞানের কোন কোন টপিক থেকে প্রশ্ন আসে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। ইংরেজি থেকে ১৫ টি প্রশ্ন আসে। বিগত কয়েক বছরের বিসিএস আর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সলভ করলেই বুঝতে পারবা কঠিন কোনো টপিক থেকে প্রশ্ন দেয়া হয় না। উদাহরণসহ টপিকগুলোর রুলস মনে রাখলে উত্তর করা অনেক সহজ হয়ে যায়। সমার্থক শব্দ ও বিপরীতার্থক শব্দগুলো নিয়মিত অল্প অল্প করে পড়লে চাপ অনেকটা কমে যাবে। কঠিন বানান গুলো লিখে লিখে পড়ার অভ্যাস করতে হবে। পরিকল্পনা মাফিক পড়াশোনা করো। সবার জন্য শুভকামনা!!


সুস্মিতা বিশ্বাস
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
সেশনঃ ২০১৭-১৮

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর