শনিবার   ১৭ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ২ ১৪২৬   ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৩১

ঢামেকে দেশের প্রথম সিবিআরএন’র উদ্বোধন কাল

স্বাস্থ্য ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৯  

রোগীদের আধুনিক সেবা দিতে বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কেমিক্যাল বায়োলজিক্যাল রেডিয়েশন ও নিউক্লিয়ার (সিবিআরএন) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। সোমবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক উন্নত ব্যবস্থাপনাটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে এ বিষয়ে কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম সিবিআরএনের আলাদা বিভাগ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আমাদের এখানে। ঢামেকের এ কেমিক্যাল বায়োলজিক্যাল রেডিয়েশন ও নিউক্লিয়ারের আধুনিক সুবিধাগুলো রোগীরা পাবেন। যেমন- এ ব্যবস্থাপনায় ফিমেল ও মেলদের জন্য আলাদা শাওয়ার আছে। মেল ও ফিমেল আলাদা আলাদা ২৬টি করে মোট ৫২টি শাওয়ার ব্যবহার করতে পারবেন। একইসঙ্গে শাওয়ারে একযোগে ৫২ জন রোগীকে কেমিক্যাল ও দূষণমুক্ত করা যাবে।

এছাড়া এখানে হ্যান্ড শাওয়ার, টপ শাওয়ার- দু’টোই আছে। রোগীকে কেমিক্যাল ও দূষণমুক্ত করতে পানির সঙ্গে কিছু ডিটারজেন্টও ব্যবহার করা হবে। কেমিক্যাল বা দূষণমুক্ত করার পরে রোগীকে এখানে আলাদা একটি রুমে রাখা হবে। পরে সেখান থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাদের পাঠানো হবে।

উদাহরণ দিয়ে পরিচালক বলেন, কোনো জাহাজে বা কোনো কারখানায় যেকোনো কারণে কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম বিস্ফোরণের পর তা সেখানের শ্রমিকদের ওপর বা তাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই কেমিক্যাল আবার শ্রমিকদের শরীর ছাড়াও নাক ও মুখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। মূলত এসব রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্যই এই বিভাগটি চালু করা হচ্ছে। এছাড়া বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ ঘটলে, রানা প্লাজার মতো বিভিন্ন কলকারখানায় এ দুর্যোগ ঘটে থাকলে, সেখানের শ্রমিকরা কেমিক্যালের কারণে অনেক সময় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সমস্যায় পড়তে পারেন। এসব রোগীদেরও একযোগে এখানে সেবা দেওয়া হবে। 

পরিচালক একেএম নাসির উদ্দিন এও বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে বিগত ১৮ বছর ধরে ময়লার স্তূপ ছিল। এখানে হাসপাতালের পুরানো মালামাল, ভাঙাচোরা যন্ত্রাংশ ও ময়লা ছিল। সেগুলো পরিষ্কার করে এখানে বাংলাদেশের এই প্রথম সিবিআরএন বিভাগ চালু করা হচ্ছে।

ঢামেক হাসপাতালের অনেক কর্মচারী ও কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসার মান অনেক উন্নত হয়েছে। জরুরি বিভাগে চালু হয়েছে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস সেন্টার। এখানে রোগীরা আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সাপোর্ট পর্যন্ত পাচ্ছেন। এটা হাসপাতালে কল্পনার বাইরে ছিল। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মকর্তারাই জানান, ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন একদম নিজের উদ্যোগে ওই আন্ডারগ্রাউন্ডে সরকারের সহযোগিতায় বিভাগটি চালু করতে যাচ্ছেন। এই পরিচালক সব সময় রোগীদের কথা চিন্তা করেন। বেশির ভাগ গরিব রোগীর কথা চিন্তা করেই হাসপাতালে চিকিৎসার মান দিনদিন উন্নত করে যাচ্ছেন তিনি।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা