সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

৩৫৭

গীবত কী? চলুন জেনে নেই

ইসলামি চিন্তা

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯  

গিবত শব্দটি আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। গিবত অর্থ পরোক্ষ নিন্দা বা কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গিবত হচ্ছে কারও অসাক্ষাতে তার সম্পর্কে এমন সব কথাবার্তা বলা যেগুলো শুনলে সে অপছন্দ করবে। সাহাবারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, বাস্তবে যদি ওই ব্যক্তির মধ্যে সেসব দোষ-ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলেও কি গিবত হবে! রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, বাস্তবে তার মধ্যে সেসব দোষ-ত্রুটি থেকে থাকলেই তো তা হবে গিবত; আর যদি সেসব দোষ-ত্রুটি তার মধ্যে না-ই থেকে থাকে তাহলে তা হবে মিথ্যা অপবাদ- আরবিতে যাকে বলা হয় বুহতান।’

মিথ্যা অপবাদ গিবতের চেয়েও বড় অপরাধ। আর মিথ্যা অপবাদের চেয়েও জঘন্য অপরাধ হলো- মিথ্যা অপবাদকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেওয়া।

একদা এক বেঁটে মহিলা কোনো প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হন। প্রয়োজন শেষে মহিলা বিদায় নেওয়ার পর আয়েশা (রা.) বললেন, মহিলাটি কত বেঁটে! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! এর দ্বারা তুমি সেই মহিলার গিবত করলে।’

তার মানে গিবত এতটাই সূক্ষ্ম ব্যাপার, যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমন ক্ষুদ্রতম মন্তব্য যা সে শুনতে পছন্দ করবে না; তা করাটা গিবতই হয়ে যাবে।

গিবত এমনই এক সামাজিক অপরাধ, যাকে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। (সূরা হুজুরাত : ১২)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা গিবত থেকে বেঁচে থাকো, কেননা গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য।’

গিবতের অপরাধ থেকে মুক্ত হতে হলে গিবতকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া ও ক্ষমা অর্জন করে নেওয়া আবশ্যক।

গিবতের মধ্যে তিনটি মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে-

১. গিবতকারী ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না;

২. তার নেক আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না;

৩. তাকে অসংখ্য পাপরাশীর বোঝা বহন করতে হবে।

তবে হ্যাঁ, কারো মাঝ যদি এমন দোষ-ত্রুটি থাকে যা ধর্ম, রাষ্ট্র, দেশ, জাতি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর তা প্রকাশ করা গিবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা