মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

২২৬

‘এখন আমার সন্তানরা অন্তত বুঝবে, ওদের মা খারাপ নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৮  

হঠাৎ এক দমকা হাওয়ায় শোভা সাজুর সাজানো সংসার লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন স্বামী। দেখা করতে দেননি তিন সন্তানের সঙ্গেও। কারণ, তাঁর নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ভারতের কেরালার থোড়ুপুঝার গৃহবধূ শাভোর জগৎটা ঢেকে গিয়েছিল অন্ধকারে। কিন্তু হাল ছাড়েননি। আড়াই বছর পর প্রমাণ করতে সক্ষম হলেন, তিনি নির্দোষ। ওই ভিডিওর নারীটি তিনি নন।

তবে এখানেই থেমে যেতে চান না শোভা।  যে ব্যক্তি তার এত বড় ক্ষতি করেছে তার শাস্তি নিশ্চিত করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চান তিনি।

শোভা বলেন, ‘ওই সময়ের কথা মনে করলে এখনও শিউরে উঠি। আমি জানি না কীভাবে লড়তে লড়তে এত দূর পৌঁছে গেলাম। কিন্তু এর শেষ না দেখে ছাড়ব না।’

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনা ২০১৬ সালের মাঝামাঝি। লিট্টো নামে শোভার স্বামীর অফিসের এক সহকর্মী তাঁর অফিসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেন। যাতে দেখা যায়, এক মহিলা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে এসে পোশাক পালটাচ্ছেন। একটা সময় পুরো নগ্ন হয়ে যান তিনি। ওই ভিডিওতে যে মহিলা ছিলেন, তিনি অবিকল শোভার মতো দেখতে।

বিষয়টি নিয়ে শোভার স্বামীর অফিসে কানাঘুষা শুরু হয়। দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। আর তাতেই ক্ষেপে গিয়ে শোভাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন তার স্বামী। এমনকি, তিন সন্তানের সঙ্গে দেখাও করতে দেওয়া হয়নি তাকে। পাশাপাশি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলাও দায়ের করেন তিনি।

জোর ধাক্কা খেলেও হাল ছাড়েননি শোভা। সিদ্ধান্ত নেন, লড়াই করবেন তিনি। তাই আদালতে মামলা দায়ের করেন।

শোভার বক্তব্য, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, স্বামীর ডিভোর্সের মামলার চেয়েও তাঁর লড়াই ছিল নিজের ছেলেমেয়ের জন্য।

মামলায় প্রথম দিকে কিছুটা হতাশই হতে হয়েছিল তাকে। কারণ, দু’বার ফরেনসিক পরীক্ষা হলেও কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। এর পর তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুললে কেরল পুলিশের ডিজির দ্বারস্থ হন শোভা। বদল হয় তদন্তকারী অফিসার। তার পর সেই ভিডিয়ো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কেন্দ্রের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং-এ(সিডিএসি)। তিরুঅনন্তপুরমে সিডিএসি-র বিশেষজ্ঞরাই শেষ পর্যন্ত জানান, ওই ভিডিয়োতে থাকা মহিলা শোভা নন। তাতেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন শোভা।

এই রিপোর্ট পাওয়ার পরই নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কে বা কারা ওই ভিডিও প্রথম ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে তথ্য জোগাড় শুরু হয়েছে।

আড়াই বছরের যুদ্ধজয়ের পর সংবাদ মাধ্যমে নিজে আর মুখ ঢাকতে চাননি শোভা। তিনি বলেন, ‘আমি মুখ ঢাকলে সবাই ভাববে আমি দোষী। এবার অন্তত আমার সন্তানরা বুঝবে, আমি অর্থাৎ ওদের মা খারাপ নয়।’

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর