বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৬ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

৩৪

উইঘুর মুসলমানদের সম্পর্কে জানেন না ইমরান খান!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯  

উইঘুর নির্যাতিত মুসলমানদের সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তুর্কী টিভি চ্যানেল টিআরটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চীনে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম নির্যাতন ও নিপীড়নের ব্যাপারে সাক্ষাৎকারে তার কাছে জানতে চাইলে ইমরান খান বলেন,‘উইঘুরে সংখ্যলঘু মুসলিমদের সঙ্গে চীন সরকার কী ব্যবহার করছেন, তা আমি বিস্তারিত জানি না।তবে এতটুকু অবশ্যই বলবো যে,পাকিস্তানের দুঃসময়ে সবসময় চীনকে আমরা বন্ধু হিসেবে পেয়েছি।’

ইমরান খান বলেন, ‘চীন আমাদের বিভিন্ন বিষয়েই সহায়তা করে, তবে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমরা তেমন কিছু জানি না। কারণ চীনের রাষ্ট্রীয় নীতি হল, তাদের তাদের যাবতীয় বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করে।’

২২ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্ক, আফগান, ভারত বিষয়সহ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নানান বিষয়ে কথা বলেন।

ভারতের বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা সবসময় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কিন্তু তারা সর্বদা বিষয়টি এড়িয়ে চলে।এর সঙ্গে ভারতের আগামী নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমি বলেছি, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নোয়নের লক্ষ্যে আপনি এককদম অগ্রসর হলে আমরা দু’কদম আগাতে পারবো। কিন্তু মোদী আগামী নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার জন্য ‘পাকিস্তান বিরোধিতাকে’ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

কাশ্মীরে ভারত সরকার মুসলমানদের ওপর নির্যতন বাড়িয়ে দিয়েছে দাবি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীরে ভারতের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তারা ছোট ছোট শিশুদের গুলির নিশানা বানাচ্ছে। শুধু ২০১৮ সালেই ৫০০ কাশ্মীরিকে ভারতীয় সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি জানিয়েছিল, চীন সরকার দেশটির ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে।

চীনের জাতিগত উইঘুর মুসলমানদের বেশিরভাগ সেদেশের শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাস করেন। প্রদেশের শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ জনগোষ্ঠী উইঘুর সম্প্রদায়ের। শিনজিয়াংয়ের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ব্যাপক হারে আটক করা হচ্ছে বলে গত কয়েক মাস ধরে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতিসংঘের ওই কমিটির কাছে নানা তথ্যচিত্র তুলে ধরে দাবি করেছে, চীনা মুসলমানদেরকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। উইঘুর মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস বলেছে, বন্দিদেরকে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেখানে তাদেরকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শ্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বন্দিদেরকে ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না এবং ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর