বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৬ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

২২

ইসলামে নারীদের সশস্ত্র জিহাদ নিষিদ্ধ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯  

ইসলাম শান্তির ধর্ম। প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) উদারতা, মানবতা, ইসলামের দাওয়াত ও মানুষকে ভালোবেসে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই ধর্মের নামে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, বোমাবাজি, অসহায় নারী ও শিশুর ওপর জুলুম-অত্যাচার, সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা তুলে ধরা, জিহাদের নামে ভুল বুঝিয়ে তরুণদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া ইত্যাদি ইসলাম সমর্থন করে না।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি ভুল বুঝিয়ে বা জোরপূর্বক নারীদের জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইসলামে পুরুষদের দায়িত্ব বেশি। ইসলাম নারীদের যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে না, সমর্থনও করে না- এটি অনৈতিক। এসব ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামে নারীদের জন্য সশস্ত্র জিহাদ সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে যেসব ব্যক্তি মানুষের কল্যাণে বা প্রিয় জন্মভূমি রক্ষার্থে জিহাদ করে থাকেন, তাদের সেবা করার জন্য নারীরা কাজ করতে পারবে।
ইসলামে জঙ্গি, প্রকৃত জিহাদ, নারীদের অংশগ্রহণ, ধর্মের নামে অসহায় মানুষকে হত্যা, জঙ্গি সংগঠনের সংখ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হুসাইনুল বান্না।

মাওলানা হুসাইনুল বান্না যুগান্তরকে বলেন, জিহাদ শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- চেষ্টা করা, পরিশ্রম করা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করা, দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করা, মানবিকতার চর্চা করা। আর কোরআনে জিহাদ বলতে বোঝায় দেশ রক্ষার জিহাদ।

তিনি বলেন, ইসলামে জিহাদের বিষয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জিহাদের নামে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, বোমা হামলা বা অন্য কোনো ধর্মের মানুষের ওপর হামলা চালানো যাবে না। এ ছাড়া যুদ্ধের ময়দানে অসহায় মানুষ হত্যা, নারী ও শিশুদের ওপর জুলুম-নির্যাতন, মন্দির ও গির্জা ভাঙা, বোমা বিস্ফোরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বর্তমানে আমরা যে জঙ্গি তৎপরতা দেখছি তা সম্পূর্ণ মনগড়া, নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা ইসলামকে ব্যবহার করছে। তারা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যায় বিশ্বাসী।

ইসলাম নারীদের জিহাদে অংশগ্রহণ কী সমর্থন করে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের সশস্ত্র জিহাদ সমর্থন করে না। রাষ্ট্র ও ইসলামকে শত্রুমুক্ত করতে যেসব ব্যক্তি জিহাদ করে তাদের সেবার জন্য নারীরা কাজ করতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তি গুলিতে আহত হয়ে যুদ্ধের ময়দানে পড়ে থাকে, তবে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যদি কোনো নারী তাকে সেবা করে সুস্থ করে তোলে তাতে কোনো বাধা নেই। নারীরা যোদ্ধাদের সেবিকা হিসেবে কাজ করতে পারবে। নারীদের সশস্ত্র জিদাহ ইসলামে নিষিদ্ধ।

যারা নারীদের প্ররোচনা দিয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করাতে চায় তারা ইসলামের শত্রু। তারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চায়। নারীদের এসব ফাঁদ থেকে দূরে থাকার জন্য নিজের সঙ্গে জিহাদ করতে হবে।

মাওলানা হুসাইনুল বান্নার তথ্য মতে, বাংলাদেশে মোট ১৩০টির মতো জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। জঙ্গিদের সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। এ ছাড়া নারী জঙ্গিদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো না। নারীদের আলাদা কোনো সংগঠন নেই। একই জঙ্গি সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম পরিবর্তন করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাদের পোশাক, চলার ধরন, কাজের ধরন, কথা বলার ধরন, চলাফেরা, আচার-আচরণ, মতাদর্শ, আদর্শ-উদ্দেশ্য একই রকম। তারা শুধু নিজেকে আড়াল করার জন্য নাম পরিবর্তন করে থাকে।
নারী জঙ্গিদের আত্মাহুতির বিষয়ে তিনি বলেন, নারীরা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যায় তাড়িত হয়ে আত্মাহুতি দিচ্ছে। একজন ব্যক্তি জিহাদে থাকাবস্থায় যদি কয়েকজন ব্যক্তি হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে তা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামে তা নিষিদ্ধ। ইসলামে আত্মাহুতিকে হারাম করা হয়েছে।

অনেকে বলে থাকে জিহাদের সময় আল্লার সন্তুষ্টির জন্য জিহাদ করা। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এ কাজ যদি কেউ করে থাকে, তবে সে জাহান্নামি। হজরত মুহম্মদ (সা.) নিজে বলেছেন, ইসলামে আত্মাহুতিকারীরা জাহান্নামি।

মেহেরপুর বার্তা
মেহেরপুর বার্তা